বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
টপ নিউজ
পেকুয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পুত্রের ইফতার সামগ্রী বিতরণ স্ক্যাভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দিল ৩ টি দোকানঃভূক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন পেকুয়ায় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম শাল্লা নোয়াগাঁওয়ে হামলার প্রধান আসামী শহীদুল ইসলাম স্বাধীনের মুক্তি চান বৃদ্ধা মা খোদেজা বিবি প্রবীন সাংবাদিক চৌধুরী হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যুতে হারুন মিয়া’র শোক প্রকাশ  “চকরিয়া প্রবাসী ইউনিয়ন” আমিরাতস্থ ফুজিরায় আলফাজ সভাপতি ও মুফিজ কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা চকরিয়া প্রবাসী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্বর্ধিত  চকরিয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের মানববন্ধন “চকরিয়া প্রবাসী ইউনিয়ন” আবুধাবীতে এখলাছকে সভাপতি ও ছাদেক কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা বিদ্যালয়ের সুনামক্ষুন্ন করতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ

“কৃষ্ণচূড়ায় চন্দ্রালো”

সিইও কর্তৃক প্রকাশিত
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৮৭ দেখুন

“কৃষ্ণচূড়ায় চন্দ্রালো”
রাইসুল ইসলাম জিসান

তাহার কাজল কালো আখি, রক্তিম ঠোট, লম্বা কালো কেশ আর পূর্ণিমার চাঁদের মতো মুখ খানি আমার মস্তিষ্কের অধিকাংশ স্থান দখল করে নেয়। শত ব্যস্ততার মাঝেও তাকে আমি এক মুহুর্তের জন্যও ভুলে থাকতে পারিনা। সে আমার দেখা পৃথিবীর সর্ব সুন্দরী রমনী। তার সাথে আমার দেখা এই কয়েক মাসের। সবে নবম শ্রেনীতে পদার্পণ। রেজাল্ট ঘোষণা করা হলেও এখনো বই বিতরণ হয়নি। নোটিশ দেয়া হয়েছে আগামিকাল বই দেয়া হবে। আমি তো প্রচন্ড খুশি নতুন বই পাবো। সেদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলাম বাহিরে মুষল ধারে বৃষ্টি পরছে। আমি তো গভীর চিন্তায় পরে গেলাম এ অবস্থায় বই দিবে কিনা। সকল চিন্তা ঝেড়ে ফেলে ছাতা হাতে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। রাস্তা সম্পুর্ন ফাকা রাস্তার ঢালুতে জল জমে গেছে। মাঝ খান থেকে হাটতে থাকলাম। মাঝ পথে যেতেই টোংয়ের দোকানের বর্ধিত টিনের নিচে এক স্বর্গের পরী অর্ধ ভেজা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। নিজের অজান্তেই তার অসহায়ত্বের ছাপে মাখা মুখ খানি আমার হৃদয়ে শিহরণ জাগিয়েছে। এই প্রথম কোনো রমনীর এক বার দর্শনেই হৃদকম্পন এত বৃদ্ধি পেলো। কয়েক মুহুর্তে ঘটে যাওয়া হাজারো অনুভূতিকে বয়কট করে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম সে এমন অর্ধভেজা দড়িয়ে আছে কেনো? উত্তরে হতাশ কন্ঠে বলে উঠলো “আমি সামনের বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনীতে নতুন ভর্তি হয়েছি, বই নিতে যাবো কিন্তু আমার ছাতা ঝরে উড়িয়ে নিয়ে গেছে”। তার কন্ঠ শুনে মনে হচ্ছিলো যেন স্বর্গ থেকে মধুর ঝর্নার
শব্দ কর্নে ভেসে আসছে। তাছাড়া কথা শুনে আমার হৃদয়ে যেন বসন্তের ঝড় শুরু হয়ে গেছে। কালো মেঘ গুলোকে বুকে টেনে চুমু খেতে ইচ্ছে করছে। বৃষ্টি না হলে হয়তো তার সাথে দেখাই হতো না। যাই হোক তাকে আমার ছাতা তলে আসার প্রস্তাব দিতে চাইলাম, কিন্তু কেন যেন ভয় হচ্ছে সে যদি খারাপ কিছু মনে করে আমাকে যদি ভুল বোঝে? হাজারো প্রশ্ন মস্তিষ্কে ঘোর পাক খেতে লাগলো। তবে সাহস করে বলেই ফেললাম আমিও নবম শ্রেনীতে পড়ি চাইলে আমার সাথে যেতে পারেন। বলার সঙ্গে সঙ্গে সে আমার গা ঘেসে ছাতার নিচে এসে দাড়ালো। জীবনের প্রথম এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হলাম, মনে হচ্ছিলো দেহের ক্লান্ত লোম গুলো তার সতেজতাকে ফিরে পেয়েছে। হৃদপিন্ডটা এত দ্রুত সংকুচিত ও প্রসারিত হচ্ছে যেন এখনই ফেটে যাবে। ঘুমিয়ে থাকা হাজারো অনুভূতির জাগ্রত হয় তখন। নিজেকে সংযত করে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে আবার হাটা শুরু করলাম। তবে বিদ্যালয় প্রবেশের কিছুক্ষণ আগে তার হাতে ছাতাটা দিয়ে তাকে আগে পাঠিয়ে দিলাম। আমি ভিজে যাব এই ভেবে সে ছাতাটা নিতে চাইল না, আমি তাকে এক প্রকার জোর করেই ছাতাটা দিয়ে দিলাম। লোকে দেখলে কি বলবে এই ভেবেই তাকে প্রথমে পাঠিয়ে দিলাম। আর আমি ভিজেই ডুকলাম তবে তখন বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। বিদ্যালয় তখন বই দেয়া শুরু হয়ে গেছে এমনকি অনেকে নিয়ে বাড়িও চলে যাচ্ছে। আমার হৃদয়ে আলোড়ন সৃস্টি কারী রমনীও ফাকে বই নিয়েছে, কিন্তু আমি তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়েই রইলাম। অতঃপর সে তার বান্ধবীদের সাথে চলে গেলো ভুলে আমার ছাতাটাও নিয়ে গেলো। সেদিনের মতো বই নিয়ে বাড়িতে চলে গেলাম। ছাতার জন্য মায়ের কাছে অনেক বকা ঝকাও শুনলাম। সব কিছুকে উপেক্ষা করে হাসছি আর নানা রকম রং দ্বারা হৃদয় দেয়ালে তার ছবি আঁকছি। এমন কিছু আমার অভ্যন্তরে জাগ্রত হয়েছে মনে হয় যেন কোনো এক জটিল মহামারি আমাকে আক্রমন করেছে। টানা ১৫ দিন প্রায় বিদ্যালয় ছুটি। কিন্তু হৃদয়ে শুধুই তাকে দেখার বসোনা। কোনো উপায় ছিলো না। ছটফটিয়ে কাটিয়েছি প্রত্যেকটা দিন। অবশেষে সেই দিনের আগামন। সকাল সাতটায় আমি উঠে গিয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। শুধুই তাহার অপেক্ষা কখন আসবে কখন দেখবো! বার বার ঘড়ির দিক তাকাচ্ছি সময় যেতেই চায় না। অনেক সময় কেটে যায়, দাঁড়িয়ে থাকতে আর পারছি না। বারান্দার বাহিরে সেগুন গাছে বসবো বলে পেছন ঘুরতেই দেখতে পেলাম পূর্ণিমার চাঁদ আমার সামনে। হঠাৎ হৃদয়ে একটা ধাক্কা খেলাম। নিজেকে সামলে নিলাম তার হাতে আমার ছাতাটাও ছিলো। দুজন দুজনের দিকে অনেক ক্ষন তাকি রইলাম। বিরক্তিকর কাকের গানে আমাদের ঘোর কাটে। সে হতবম্ভ হয়ে আকে ছাতা ফেরত দিলো এবং চলে যেতে চাইলো আমি ডাক দিলাম এই পরী শুনছো — সে আগ্রহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো ” আমাকে বলেছো “। আমি বললাম ” এখানে তো অন্য কেউ নেই “।সে একটু গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো আমার একটা নাম আছে। একটু মুচকি হেসে বললাম আমি তো নাম জানি না তাই রুপের বর্ননায় ছদ্মনাম দিয়ে নিলাম। একটু লজ্জা পেয়েছে তবে না বুঝতে দিয়ে বললো আমার নাম আলো। আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলাম “তাই তো বলি তোমাকে দেখার পর থেকেই কেন চারদিকে এত রঙিন আলো। কেন হৃদয়টা আজ অদ্ভূত অনুভুতির আলোয় আলোকিত “। ও এ কথা শুনে হেসে উঠলো বললো তোমার মাথায় কি সমস্যা হয়েছে নাকি আবল তাবল বকছো। আমি লজ্জা পেলাম এবং সব কিছু আড়াল করার জন্য বললাম তুমিতো বিদ্যালয়ে প্রথম তাই মজা করলাম। সে বলল তাই আগে বলবে তো আচ্ছা তোমার নাম কী? উত্তরে বললাম যাকে ব্যবহার করে তুমি আলো ছড়াও আমি সেই চন্দ্র। একটু মুচকি হাসি দিলো এবং চলে গেলো। পরের দিন আবারো তার অপেক্ষা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তার আগমন তার পথ আটকালাম আর আর বলে উঠলাম “কী বিষ দিলে গো মোরে,
হৃদয় যে আজ ছটফটিয়ে মরে, পাইনা খুজে দেহেতে মোরে জানিনা হৃদয় কার শহরে ঘোরে, কী বিষ দিলে গো মরে “। তখন তার মুখেতে গম্ভীরতা থাকলেও চোখে এক অদ্ভুত মায়া দেখতে পাই, যেন এখনই সে আমাকে তার হৃদয়ের কেয়ারটেকার হিসেবে নিয়োজিত করবে। কিন্তু তারপরো কথা ঘুরিয়ে নিলাম। এভাবে অনেক দিন কাটে। এখন সে আমার খুব ভালো বন্ধু। হঠাৎ একদিন সে আমাকে একটি কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষের নিচে নিয়ে গেলো, সে নাকি রক্তিম কৃষ্ণচূড়া খুব ভালোবাসে। এটা নাকি তার শত কস্টের অংশীদার। এ বৃক্ষ তলে বসলে নাকি তার হাজারো হতাশতা দূর হয়ে যায়। হৃদয়ের হাজারো ক্লান্তি নাকি কৃষ্ণচূড়ার এ রক্তিম আবারন চুষে নেয়। তার মুখে এমন আবেগ মাখা কথা শুনে আমি একটু বিস্মিত হলাম। এর পর যা শুনলাম তার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। তার নাকি বাবা মা নেই মামা মামি নাকি তার শেষ আশ্রয় স্থল। মামি তাকে সারাদিন খাটায় মামাতো বোন তাকে নানা রকম অত্যাচার করে। অসহায় মামার দেখা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ” আমি জানি আমাকে নিয়ে তুমি হাজারো স্বপ্ন বুনেছো, হৃদয়ের কোনে হয়তো ছোটো ঘরও বেধেছো, খুব ভালোবাসো আমায়। হয়তো এই কথা গুলো শোনার পর আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা অতলে হারিয়ে গেছে। বস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে। আমাকে যে ভালো বাসবে সে আমার আমিকে ছাড়া আর কিছুই পাবে
না “। তার এ কথা গুলো শুনে আমি অনেক অবাক হই কারন এত হতাশতা বয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষটার মুখে সারাদিন হাসি থাকে কিভাবে। আমিও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি তাকেই আমি আমার জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে চাই। তার প্রতি আমার কৌতুহলের শেষ নেই, তার মাঝে হাজারো বিশেষত্ব রয়েছে আমি তা আহরণ করতে চাই। যে বক্ষ সাগরে হাজারো হতাশতা বয়ে বেড়ায় আমি সে বক্ষ সাগরের শিরোনাম হীন গন্তব্যে অসীমের পথ পারি দিতে চাই। তার অভ্যন্তরীণ সব মাধুর্যকে আমি নিজের মাঝে স্থাপন করতে চাই। আমি তাকে হালকা গম্ভীর স্বরে বলে উঠলাম
” তোমার যত অভিশাপ আছে ভাগ করে নেবো আজ,
হৃদয়ের শত ক্ষতকে শুকাবে আমারই ভালোবাসার আচ”
তার কাছে আমি কৃষ্ণচূড়া হওয়ার দাবি জানালাম বললাম আমাকে কৃষ্ণচূড়া ভেবে বরণ করে নাও হে প্রিয়তমা, আমি তোমার সকল যন্ত্রনার অবসান ঘটাবো,,
কথা বলতে বলতে অনেক সময় হয়ে যায় তাকে বাসায় পৌছে এসে আমি একা একা ভাবছি আবেগের বসে ভুল কিছু করেছি নাকি। বাবা মা মেনে নেবে কিনা এই ভেবে একটু কস্ট হচ্ছে। কিন্তু তার ওই চোখের মায়ার বিশালতার কথা ভাবলেই আমি সব ভুলে যাই।
দুজনের হাজারো আনন্দ বেদনার গল্পে কেটে যায় প্রায় ২ টি বছর। মাধ্যমিকে দুজনেই পাশ করেছি। আমি কলেজে ভর্তী হয়েছি কিন্তু তার কোনো খোজ নেই। অনেক দিন যোগাযোগ ও নেই। কোনো ভাবেই মন কে সান্ত্বনা দিতে পারছি না ছুটে গেলাম তার বাড়িতে সেখানে তালা বদ্ধ। দৌড়ে চলে গেলো কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষের নিচে সেখানে কনে সাজে বসে আছে একটি মেয়ে চারদিকে রক্তিম ফুলের মাঝে তাকে স্বর্গের দেবীর মতো লাগে। এমন অবস্থায় এখানে বসা কেন সে জানতে চাইলাম, তার মামি নাকি তাকে জোড় করে গ্রামের একটা বখাটে ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিলো তাই এখানে এসেছে মন ভালো করতে। আমি সবে মাত্র একাদশ শ্রেনীর ছাত্র এখন বিয়ে করলে বাবা মা মেনে নিবে না। মাথায় হাজারো প্রশ্ন বুকে যেন ব্যাথ্যার পাহাড়। বিবেক হাজারো প্রশ্ন করে যাচ্ছে। সকল প্রশ্নের একটাই জবাব দিলাম আমি তাকে আলো ছড়ানোর সুযোগ করে না দিলে তার আলো তো অন্ধকারে ডেকে দেবে। তাকে নিয়ে গন্তব্যহীন যাত্রার শুরু করলাম। চলেছি অচেনা পথে যেখানে কেউ আমাদের চেনে আমরা কাউকে চিনি না। নাই অর্থ নাই বাস স্থানের কোনো ঠিকানা আহারের মতো খাবার ও নেই আছে শুধু দুজনের প্রতি দুজনের অন্তিম ভালোবাসা।। চলার পথের সিদ্ধান্ত এ শহর থেকে অন্য জায়গায় পাড়ি জমাবো। হাতের ঘড়িটা বিক্রি করে ছোটো একটা ঘরের ব্যবস্থা করলাম একরাত থাকার জন্য। এক দাদিমার বাসা তাকে ঘটনার পুরোটা বলতেই সে আমাদের ওখানে থাকতে বলেছেন যত দিন ইচ্ছা। বাসার পাসেই একটা রডের দোকান সেখানে রড দিয়ে নানা রকম সরঞ্জাম তৈরি হয়, কাজ নিলাম সেখানে। ঐ দিকে বাবা মা হয়তো কান্নায় বিভোর ভুলেই গিয়েছিলাম তাদের কথা। সবটা শোনার পর আমাকে তেজ্য করে দেবে হয়তো। প্রথমে কস্ট হতো অনেক ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাচ্ছে। এভাবে প্রায় ৩-৪ বছর কেটে যায় সামান্য পুজি দিয়ে নিজেই দোকান করি নাম দিয়েছি চাঁদের আলো, প্রথম দিক থেকেই অনেক কাজ পাচ্ছি লাভের পরিমানটাও অনেক আমাদের শুখের দিন আসবে তার কি খুশি। আর কত পরিকল্পনা আমাদের একটা অতিথি আসবে সে যদি ছেলে হয় তার নাম হবে ‘আলোক চন্দ্র” আর মেয়ে হলে নাম হবে পূর্ণিমা। তার স্বপ্ন পূরনের বীজ বপ্ন করলাম। বুড়িমাকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং আমরা ছোটো দেখে বারান্দা আর উঠোন ওয়ালা একটা বাড়ি ক্রয় করেছি আলোর সুবিধার্থে সেখানে যাই। ওর কস্ট হবে ভেবে কাজের লোক নিয়ে আসি। যত দিন যাচ্ছে আমরা তত স্বপ্ন পূরনের লক্ষে এগোচ্ছি। আলোর কত শত স্বপ্ন আমাদের সন্তান কে নিয়ে। কখনো সে ডাক্তার বানাতে চায় কখনা বা পুলিশ কখনো কখনো শিক্ষক বানানোর ও শখ জাগে। এভাবে হাজারো স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে চলে এসেছে সেই সময়টা। সেদিন রাতে ঘুমিয়েছি দুজন হঠাৎ ভোর রাতে কেমন একটা শব্দ শুনলাম উঠে দেখি আলো মাটিতে পরে আছে আর মুখ দিয়ে সাদা ফেনার মতো বের হচ্ছে। আমি হতবম্ভ হয়ে গেলাম প্রতি বেশিদের ডাকা ডাকি করলাম কেই শুনে না। বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি তারপর ও বের হয়ে গাড়ি ডাকার চেস্টা কিন্তু রাস্তা ফাকা রাস্তার দুই ধারে পানি জমে আছে আমি আলোকে কোলে নিয়ে হাটতে শুরু করলাম। হাটছি আর ভাবছি কোনো এক বর্ষা আমাকে আলোকে উপহার দিয়েছিলো এবার হয়তো নতুন আরো কিছু উপহার দেবে।কিন্তু তার শরীরটা নিস্তেজ দেখে বেশ চিন্তাও হলো। কিছুক্ষণ হাটার পর রাস্তার পাশে একটা তিন চাকার গাড়ি দেখতে পেলাম তাকে গাড়িতে শুইয়ে দিয়ে আমি ঠেলতে থাকলাম এভাবে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। তাকে একটা কক্ষে ডোকানো হয়েছে আমি অনেক কাকুতি মিনতি করেছি আমাকে ডুকতে দিলো না। কিছুক্ষণ পর আমি কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। খুব আনন্দ হচ্ছিলো আমার। ডাক্তার বাবু কক্ষ থেকে বের হতেই আমি তাকে ধোরলাম সে আমাকে ২ টি খবর দিলো আমার নাকি মেয়ে হয়েছে আর ২য় খবরটা শুনে আমার হৃদয়টার এক অংশ ঝরে পরে যায়।যার জন্য সর্বস্য ত্যাগ করেছি আজ তাকে বিদায় দিতে হবে। এটা মেনে নেয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। হৃদয়ে শত আঘাতের সুনামি বয়ে যাচ্ছে কিন্তু মেয়েটির কথা চিন্তা করে,, নিজেকে শক্ত করলাম। এবং শেষ বারের মতো তাকে দেখলাম। গালে একটি চুমু একে কথা দিলাম তার মেয়েকে তার মতো কস্ট কোনোদিন পেতে দেবো না, মায়ের অভাবটা তাকে অনুভব করতে দেবো না। নতুন বাড়ির সামনে তার নিজ হাতে রোপিত কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।।

৪ বছর পর ———

আমি একদিন বারান্দায় বসে চোখের বালি পড়ছি হঠাৎ পূর্ণিমা এসে প্রশ্ন করে আচ্ছা বাবা মা কী?

ওর কথায় আমি থমকে যাই বলি এ শব্দটি পেয়েছো কোথায়?

পূর্ণিমা বলে ওঠে নিচের বাসার ছোটন বলেছে ওর মা আছে। আমার মা কই?

আমি বললাম তোমারও মা আছে ওই দেখো চাঁদ ওটার থেকে যে আলো আসে সেই আলোই তোমার মা ওই আলো যেখানেই যাবে সেখানেই তোমার মা আছে।।

পূর্ণিমাঃ বাবা নিচের ওই লাল ফুলে গাছটাকে এত যত্ন করো কেনো?

ওই গাছটা তোমার মাকে অনেক ভালোবাসে তোমার মাও গাছটাকে অনেক ভালোবাসে। তোমার মায়ের সাথে কথা বলতে চাইলে এই গাছের সাথে বলবে তাহলেই উত্তর পেয়ে যাবে। তুমি যাতে মায়ের সাথে কথা বলতে পারো তাই এত যত্ন করি।।

মা অনেক পঁচা ছোটনের মায়ের মতো না থেকে মা আলো হয়ে চাঁদে চলে গেছে। মুখটাকেও লাল ফুলের গাছের মাঝে লুকিয়ে রেখে দিয়েছে। আমি মাকে একটুও ভালোবাসি না বলে পূর্ণিমা চলে যায়।

তাকে বলার কোনো ভাষা আমার ছিলো না।।
নিচে নেমে প্রতিদিনের মতো কৃষ্ণচূড়া ফুলের আবারনে ডাকা চিরকুট টা খুললাম সেখানে লেখা আছে ——-

চন্দ্রালো কী আজ নীভে গেলো?

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Design & Develop BY Coder Boss
© Copyright 2019 All rights reserved BBC Morning
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102