সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
টপ নিউজ
বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু চাল নিয়ে বাড়ী ফিরা হল না মসজিদের মোয়াজ্জিন রুহুল কাদেরের চকরিয়ায় ৪ মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামী জমিরকে পুলিশ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা শপথ নিলেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরবৃন্দ চকরিয়ায় সর্ববৃহৎ নারী উদ্যোক্তা সংগঠন হস্তশিল্প পরিবারের বর্ষপূর্তি পালিত চকরিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রায় ১৫হাজার টিকা প্রদানের ঘোষণা পেকুয়ায় লোকালয়ে আসা ১০ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার কবি মানিক বৈরাগীর উদ্যোগে কক্সবাজারের দুইটি পাঠাগার পেয়েছে অসংখ্য বই চিত্রশিল্পী সরওয়ার হত্যার বিচারের দাবীতে মানবন্ধন সক্রিয় চুর সিন্ডিকেটঃ আতঙ্কে খুটাখালীবাসী

বন্ধুরা কবে ফিরবো ক্যাম্পাসে?

সিইও কর্তৃক প্রকাশিত
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৬৮ দেখুন
করোনাভাইরাস এখন এক গল্পের মতো। যদিও গৃহবন্দীর প্রায় সাড়ে সাত মাস কেটে গেলেও শিক্ষার্থীদের মনে স্বস্তির দেখা মেলেনি। সুদূর চীনের একটি ভাইরাস যে বাংলাদেশেও এত প্রকট আকারে আঘাত হানবে সবার কাছে তা অকল্পনীয় ছিল। হঠাৎ এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে স্থগিত হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করে আসছেন। যেখানে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসেই অধিকাংশ সময় কাটাতো সেখানে বাড়িতে বসে অবসর সকয় কাটাতে হচ্ছে তাদের। মিস করছে প্রিয় ক্যাম্পাসকে আর বন্ধুদের। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধু কি সেটা করোনা মহামারী না আসলে কেউ হয়তো উপলব্ধিই করতে পারতো না।
উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের ভিন্ন-ভিন্ন জায়গা থেকে আসা, ভিন্ন মনমানসিকতা, ভিন্ন সংস্কৃতি আর ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ গুলো এক হয়ে যায় ক্যাম্পাসের বন্ধুত্বে। সম্ভবত এখানেই  ক্যাম্পাসের বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা। এই বন্ধুত্ব মানুষকে জাতি-ধর্ম-বর্ণের উর্দ্ধে উঠতে শেখায়, শেখায় সহিষ্ণুতা। ক্যাম্পাসে ক্লাস শেষে কিংবা অবসরে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেওয়া একটুখানি মনে প্রশান্তি এনে দেয় সবার মাঝে। সারাদিনের পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা জমে ওঠে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে টিএসসির চায়ের দোকানগুলোতে। করোনায় ক্যাম্পাসের এই বন্ধুগুলোর আড্ডা মিস করছেন সবাই। স্কুল-কলেজের বন্ধুদের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুত্বের দিনগুলো সব শিক্ষার্থীর কাছে অনেকটা রোমাঞ্চকর স্মৃতিও বটে! তবে এ সুযোগটি পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু হতে না হতেই করোনা যেনো তাদের থেকে সেই আনন্দটুকুই কেড়ে নিলো। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুত্বটা কারো কাছে অনেক ভারী আর কারো কাছে ভরসার শব্দ। বন্ধু ছাড়া ক্যাম্পাস যেন মরুভূমি। প্রয়োজনে এরা অবতীর্ণ হয় মা, বাবা ভাইয়ের ভূমিকায়। ক্যাম্পাসের বন্ধুদের মধ্যে থাকে আত্মার অভিন্নতা। বন্ধু ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কল্পনায়ও ভাবতেই পারে না অনেকে।
ঘুম থেকে ওঠেই ক্লাস, টিএসসিতেতে বন্ধুদের সাথে চা-আড্ডা আর লালবাসে বন্ধুরা মিলে গলা ফাটিয়ে বেসুরা গলায় গান এ সব কিছুই যেন কেমন অতীত স্মৃতি হয়ে গেল। ক্লাসের অসমাপ্ত লেকচার, টিউটোরিয়াল, এসাইনমেন্ট, বন্ধু ও প্রিয়জনকে দেয়া প্রতিশ্রুতি সবকিছুই স্থবির হয়ে গেল এক অদৃশ্য শক্তির ভয়াল থাবায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট যেমন শান্ত চত্বর, টিএসসি, বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর, কলা অনুষদ চত্বর, কাঁঠালতলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলগেইটের বাহিরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেইটের সামনে, বিশ্ববিদ্যালয় বাসের ভেতরে, ক্যান্টিনে, ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে, অবকাশ ভবনে, শহীদ মিনারের সামনে, বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আড্ডা এবং খোশগল্পে ভরপুর থাকতো একসাথে দলবেঁধে বন্ধুদের আড্ডা হয়না। আড্ডা হচ্ছে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, আনন্দ আর উল্লাসের উৎস। বৃষ্টি হোক আর রোদ হোক থেমে থাকবে না বন্ধুদের ক্যাম্পাস আড্ডা। হিংসা আর বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে আড্ডা গড়বে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। আর এই বন্ধুত্ব-গল্প-আড্ডার চির ধরেছে করোনায়।
ক্যাম্পাস চলাকালে জন্মদিনের কেক কাটার জন্য বার্থডে চত্ত্বর, টিএসসি, শহীদ মিনার, সায়েন্স ফ্যাকাল্টির কোনায়, পোগোজ স্কুল মাঠে সিরিয়াল যেখানে ভীড় পড়ে যেতো করোনা সেই আনন্দটুকুও সবার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। প্রথম বর্ষের শুরু থেকে করোনায় ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত মনে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে সবার। বন্ধুত্বের বন্ধন যে কতটা প্রকট করোনাকালীন সময়ে তা অনুভব করছে সবাই। দীর্ঘদিন দিন দেখা না হওয়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে-অপরের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। করোনার এই সময়ে বন্ধী জীবনে ডিপ্রেশন কাটানোর একমাত্র উত্তম সঙ্গী হিসেবে ছিলেন বন্ধুরা। খাতা-কলম নিয়ে ছুটে চলার যে কর্মব্যস্ততা তা যেন এখন শুধু কল্পনাতে রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় আবার কবে ক্যাম্পাস মুখর হয়ে উঠবে, বন্ধুরা সবাই একসাথে মিলে আড্ডা দিতে পারবো। বাসায় বসে এখন এই অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে সবাইকে। করোনার এই মহামারিতে চারদিকে যেমন নিস্তব্ধতা, মানুষের চোখে ঘন কালোর ছায়া আর শিক্ষার্থীদের সারাদিন ধরে ক্লাস, ল্যাব, এসাইনমেন্ট, অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকা ক্যাম্পাসগুলো এখন যেন প্রাণহীন, স্থবির। ফেসবুকের আলাদা জগতে এখন আড্ডা দেওয়া, বন্ধু বানানো খুব সহজতর প্রক্রিয়া হলেও তাতে মন ভরে কারো। তাই তো প্রতিদিন শুনা যায় ক্যাম্পাসে ফেরার সবার আকুতি, আর্তনাদ। প্রতিদিনই ফেসবুকের নিউজ ফিডে দেখা যায় অসংখ্য স্ট্যাটাস আর পোস্ট। তবে ফেসবুকে লাইভ প্রোগ্রাম করেও সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। সবারই ক্যাম্পাসে ফেরার প্রত্যাশা।
সবাই অপেক্ষা করছে কবে এই মহামারী শেষ হবে, কবে আবার সবাই ক্যাম্পাসে দাপিয়ে বেড়াবে। এই ছুটিতে সবাই একে অপরের জন্য দোয়া কামনা করে, সবাই যেনো আবার একসাথে মিলিত হতে পারে সেই প্রত্যাশা সবার। বন্ধুরা মিলে প্রাণের টানে আবার  ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ফিরে যাবে। মুখরিত করে তুলবে প্রিয় ক্যাম্পাস। সেই দিনের অপেক্ষায়। কবে আসবে সেই দিন যেদিন শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়!
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
01775699219

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Design & Develop BY Coder Boss
© Copyright 2019 All rights reserved BBC Morning
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102