রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
টপ নিউজ
চকরিয়া যুব পরিষদের উদ্যােগে ৫০০০ মাস্ক বিতরণ সিটিভির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু, ইউসুফ বিন হোসাইনের সার্টিফিকেট অর্জন  প্রত্যয় বাংলাদেশ’র ’সুরক্ষার জন্য মাস্ক’ প্রজেক্ট বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ সাড়া জাগানো ইসলামী সংগীত শিল্পী মোহাম্মদ ইলিয়াসের জানাযা সম্পন্ন; হাজারো জনতার ঢল পেকুয়ায় ব্যক্তিগত টাকায় কালভার্ট ও মধুখালী সড়ক সংস্কার কক্সবাজারের সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পেকুয়ায় মানববন্ধনে হকারদের কঠোর ঘোষণা আগে চাই পুনর্বাসন, উচ্ছেদ হতে হবে পরে পেকুয়ায় পাহাড়ে মিলবে নেটওয়ার্ক, মুঠোফোন কোম্পানীর টাওয়ার উদ্বোধন জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেলো পহরচাঁদা আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শোয়াইবুল ইসলাম সরকারী সম্পত্তি দখল, রাজনের খুঁটির জোর কোথায়

“হাসু আপু, আমি শেখ রাসেল বলছি”

সিইও কর্তৃক প্রকাশিত
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ২৫১ দেখুন

“হাসু আপু,
আমি শেখ রাসেল বলছি”
———— কাউসার নাজ নাছের

বহুদিনের পুঁজিভূত আবেগ আজ তোমার কাছে ব্যক্ত করতে যাচ্ছি। শোকাবহ আগষ্টে প্রতি বৎসরই আমার লিখনী শুরু হতো “ক্ষমাকর জাতির পিতা” এইভাবে, তবে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হওয়ার পর থেকেই ইচ্ছা হচ্ছে রাসেল হয়ে হাসু আপুর কাছে লিখতে, কিন্তু ২/১ বৎসর ধরে বিভিন্ন ধরনের ব্যস্থতার কারনে মনের অভিব্যক্ত পুর্ণতা দিতে পারিনি। তবে মনের ডাইরীতে ঠিকই লিখে গিয়েছিলাম। শোকাহত আগষ্ট আসলেই লিখনী আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় মনের অভিব্যক্ত প্রকাশ করতে। হারিয়ে যাই সেই পচাঁত্তরে মনের পর্দায় ভেসে উঠে বিভিন্ন পরিস্থিতির দৃশ্য। এখন ও মনের সেই অনুভুতিটা অনুভব করি। আতংকিত হই। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে, কাতর হয়ে জ্বলে উঠে ফেটে পড়ি। আমি ভাবি তুমি কত ধর্য্যশীল।

যখন কোন টিভিতে, ১৫ই আগষ্টের শোকাবহ আলোচনা দৃশ্যমান হয়। তখন আমি হারিয়ে যাই সেই আট/নয় বৎসরের শিশুতো স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে এক একটি মুহুর্তের পরিস্থিতি।

আমরা সবাই জানি দক্ষিন চট্টগ্রামের মধ্যে সাতকানিয়া, চকরিয়া হলো জামাতিদের ডিপু। চকরিয়া হলো আমার জন্মস্থান, আমাদের বাড়ি, আমাদের পরিবার ছিল জয় বাংলা অনুসারি, আমার বাবা ছিল একজন মুক্তি যুদ্ধা, চকরিয়া থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও দক্ষ সংগঠক। ১৯৭৫ এর পত পরিবর্তন এর পর অনেক প্রতিকুল পরিবেশে আমাদের জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৯৭৫ থেকে ২০১৪ সাল অনেক পরিবর্তন। এখন খুব ইচ্ছা করে চকরিয়ার আনাচে কানাচে বিচয়ন করতে। শুধু আকাঙ্খা হয়, শেখ রাসেল যদি আজ বেচে থাকতো। সে তো ছোট্ট শিশু ছিল, তার তো মরার কথা নয়, সেই নিঃপাপ ছোট্ট শিশুকে কিভাবে মারতে পারলো সেই পাষান্ডরা।

হাসু আপু, তুমি তো জান আব্বু আম্মুর পর আমি রেহানা আপুকে কত ভাল বাসতাম, তুমি যখন সাথে করে ওকে নিয়ে গেছ, তখন আমি একে বারেই একা হয়ে গেলাম। সারাক্ষন ওর কথাই মনে পড়তো, খেলার সময়, পড়ার সময়, খাবার সময়, সারাক্ষন শুধু ওকেই অনুভব করতাম। যদিওবা সে, সব সময় আমাকে বিরক্ত ও শাসন করতেই ব্যস্ত ছিল। ঠিক মত মন ভরে সাইকেল টাও চালাতে দিত না।

ও হ্যা সাইকেলের কথা মনে পড়তেই জানতে ইচ্ছা হলো, আমার সাইকেলটা কেমন আছে? ওটাকে কিন্তু যত্ন করে রেখে দিও। এই সাইকেলের সাথে আমার ক্ষুদ্র জিবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই সাইকেল চালাতে গিয়ে রেহেনা আপুর সাথে আমার কম খুনসুনি হয়নি। সে আমাকে বিরক্ত করলে কী হবে, আমি সাইকেল চালাতে গিয়ে যেন পড়ে না যাই, সেটা কিন্তু দূরে দাঁড়িয়ে খুব খেয়াল করতো। সে আমাকে শাসন করলে কী হবে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী আদর করতো। তাই তুমি যখন ওকে নিয়ে গেলে তখন মনে মনে তোমাকে অনেক বকেছি। এখন ভাবছি ভালই করেছ, সাথে করে ওকে নিয়ে গেছ। না হয় সেইদিন পাষান্ডরা ওকে ও হত্যা করতো। তখন তোমার কী হতো? তুমি তো একে বারেই একা হয়ে যেতে। তখন তুমি কার বুকে ঠাঁই পেতে। এখন একে অপরের কাছে শান্তনা খূঁজে পাও।

রেহেনা আপু তো শক্ত এক অভিমানী। তাই তো সে বলেছিল, যে দেশে আমার আব্বুর মত মানুষকে হত্যা করতে পারে, সে দেশে আবার কিসের রাজনীতি। এই বলে সে রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে সরে রেখেছে। না হাসু আপু, ওর ভুল ভেঙ্গে দিও। ওকে বলে দিও, গুটি কয়েক কুচক্রি, পাপিষ্ট, বর্বর কাপুরুষ পাষান্ড্রা আব্বুকে হত্যা করে, জাতিকে অন্ধরারে নিঃমজ্জিত করতে চাইলেও কোটি কোটি বাঙালি আব্বুকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসে। জাতির জনককে হারানোর বেদনা তিলে তিলে অনুভব করে। সারা মুসলিম জাহান যেমন মহররমকে শোকের মাস হিসাবে মনে করে, ঠিক তেমনই বাঙালি জাতি আগষ্টকে শোকের মাস হিসাবে পালন করে। গুটি কয়েক দুষ্কৃত কারীর জন্য বাঙ্গালিকে অকৃতজ্ঞ ভেবো না। ইতিহাস বলে কালে কালে মীর জাফরের আভির্ভাব হয়। এই সবকে মোকাবেলা করেই জীবন চলতে হবে। এইটাই ইতিহাস, তাই বলে কী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে? বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর উত্তরসুরী দেরকেই নিরলস ভাবে কাজ করে যেতে হবে। রেহেনা আপু তো আব্বু, বাংলাদেশের স্থাপতি, রাষ্ট্র নায়কের সাথে জাপান সহ অনেক দেশের সফর সঙ্গী ছিলেন সেই সব অভিজ্ঞতা কি কাজে লাগাতে হবে না?
দেশের কল্যানে, আব্বুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে না? ওকে বলো, জীবনের যেটুকু সময় জাতির পিতার সানিধ্য পেয়েছে, কাছ থেকে দেখেছে, সে সব অভিজ্ঞতা যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যায়। তবেই তো বাংলার দুঃখি মানুষের মুখে হাঁসি ফুটবে। তিরিশ লক্ষ শহীদের আত্মা শান্তি পাবে। বাংলার মানুষকে সুখী করে, সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে উঠে বঙ্গবন্ধুর আজম স্বপ্ন ও লক্ষ বাস্তবায়ন হবে।

হাসু আপু, তুমি কি জান সেইদিন সেই ঘাতকরা রাড়ীর অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে বাহিরে আমাকে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল, তখন আমি ভয়ে আতংকে হত বিহবল হয়ে কেমন যেন মুষড়ে পড়েছিলাম। আমি জানতাম ঐ খুনি পিচাষরা আব্বু আম্মু সহ সবাইকে হত্যা করেছে, তার পরও কেন যেন আমি একটি আশ্রয়স্থান খুজে ফিরেছিলাম। তাই আমি বাচার আকুতি করে বলে ছিলাম, আম্মুর কাছে, মায়ের কাছে যাব, তখন সেই পাষান্ডরা আমাকে টেনে হিছড়ে চল মায়ের কাছে চল বলে নিয়ে যাচ্ছিল। নীচে দেখলাম কামাল ভাই পড়ে আছে, সিঁড়িতে পড়ে আছে………।

দুতলায় দেখলাম জামান ভাই, মাকে দেখলাম নিথর দেহে রক্তে চুপচুপে ভিজে অভিনশ্বর দৃষ্টিতে অসহায় ভাবে আমার দিকে চেয়ে আছে। মায়ের আচলের কাছে যেতেই………।

ওরাতো জিয়াদের বংশধর সীমার ও এজিদের অনুসারী। তাই আমার মত একজন নিঃ পাপ নিরাপরাধ শিশুকে হত্যাকরতে হাত কাপে নাই, দ্বিধাবধ করেনাই। শত আকুতিতে তাদের মন গলেনি। হাসু আপু, মনে রেখ তাদের অনুসারীরা এখনো সুযোগের সন্ধানে আছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তারা জাতির জনকের মৃত্যুর দিনে মিথ্যাভাবে জন্মদিন পালন করে উল্লাস করে, তারা কোন মানষিকতার মানুষ তা জাতির কাছে প্রশ্ন রেখো। মানুষ কত হিংস্র নির্মম ও বর্বর হলে কারও মৃত্যুর দিনে ভুয়া জন্মদিন করে উল্লাস করতে পারে কত জঘন্য মানষিকতার অধিকারী তা জাতির কাছে প্রশ্ন রেখো। যে মানুষটি জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান সময় তেইশটি বৎসর জেল, জুলুম সয্য করে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য, সংগ্রাম করে, আন্দোলন করে, জেল কেটে বাঙ্গালির হয়ে লড়াই করেছে, দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার স্বপ্ন দেখেছো তাঁকে যারা হত্যা করেছে, হত্যার বিচারের কার্য রুদ্ধ করেছে, হত্যা কারীদের যারা পুরষ্কৃত করেছে, যারা স্বধীনতা বিরুধীদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, যারা স্বাধীনতা বিরুধিদের গাড়িতে শহীদের রক্তে রঙ্গিত জাতিয় পতাকা উড়ার সুযোগ করিয়ে দিয়েছে, তাদের কি বিচার ও শাস্থি হওয়া উচিত? না তাদেরকে কোন দিন ছাড় দিতে পারবে না। প্রয়োজনে তাদেরকে মরনোত্তর ফাঁসি দিতে হবে। জাতির কাছে উম্মুচন করে দেবে তাদের আসল চেহারা। মিথ্যা বনিতা দিয়ে ইতিহাস বিকৃত করে বেশীদিন টিকে থাকতে পারেনা।

তা একদিন প্রকাশ হবেই। রাব্বুল আলামিন তোমার হেফাজত করুক। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সফল হোক। বাংলার দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফুটুক সেই প্রত্যাশায়; ফি আমানিল্লাহ্‌।

কাউছার নাজ নাছের
সাহারবিল,চকরিয়া,কক্সবাজার।
সভাপতি- বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউ, এ ই।
সভাপতি- বঙ্গবন্ধু মহিলা পরিষদ, দুবাই, ইউ.এ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Design & Develop BY Our BD It
© Copyright 2019 All rights reserved BBC Morning
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102