শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১১ অপরাহ্ন
টপ নিউজ
কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে রাজশাহীতে বদলি,হাসানুজ্জামান নতুন এসপি সিনিয়র সাংবাদিক জহিরুল ইসলামের ফেসবুক টাইম লাইন থেকে “ইয়াছমিন সুলতানার করোনা জয়” পেকুয়ার মগনামায় ৭৪২জন জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ পেকুয়ায় নদী থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার পেকুয়ায় সোনাইছড়িতে প্রতিষ্টিত হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ স্কুল পুরান বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়  অর্ধ শতাব্দির ও বেশি সময়ের ঐতিহ্য বহন করে করোনাভাইরাসে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর মৃত্যু কক্সবাজারের মহেশখালীতে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ সুনামগঞ্জের শাল্লায় ইউপি সদস্য আ: নূর যখন চোর চক্রের প্রধান, থানা পুলিশের ভয়ে মেম্বার ও চোর পলাতক নিউজ পোর্টাল”দৈনিক নূরের দর্পণে”র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

বাঙালি জাতির ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি শোকাবহ দিন

Reporter Name
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৬ দেখুন

ঢাকাঃ

দেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দেয়া এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে রাজধানীতে দলটির সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৬তম বার্ষিকী আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট)।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এ গ্রেনেড হামলায় দলের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান।

অল্পের জন্য বেঁচে যান হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু বতর্মান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ হামলায় তিন শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

গ্রেনেড হামলার এ ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অধীনে একটি এবং হত্যার জন্য আরেকটি মামলা। সব প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর গ্রেনেড হামলার দুই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালাত।

এছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

প্রতি বছর দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করে। তবে এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির প্রভাবে কর্মসূচি পালনের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বার্তায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তারা বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।

বাঙালি জাতির ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি শোকাবহ দিন
উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভা চলাকালীন ইতিহাসের বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান দলের ২৪ জন নেতা-কর্মী। আহত হন অনেকে। এ হামলায় বেঁচে থাকা অনেকে আজও পঙ্গুত্ববরণ করে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। ঘাতকচক্রের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রুখে দেয়া এবং দেশে স্বৈরশাসন ও জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা হতে দেয়নি।”

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার পাশাপাশি পরমতসহিষ্ণুতা অপরিহার্য।

দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে সব রাজনৈতিক দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, “২০০৪ সালের এ দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা; আমাকে হত্যাসহ বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে হত্যা, ষড়যন্ত্র, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে চিরস্থায়ী করা।”

“মহান আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমত ও জনগণের দোয়ায় আমি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাই। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে আমাকে রক্ষা করেন। তবে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলায় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভানেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী। অনেকে আজও পঙ্গুত্বের অভিশাপ বহন করছেন,” যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচার করা ছিল সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো হত্যাকারীদের রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা করেছিল। হামলাকারীদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সব আলামত ধ্বংস করা হয়। কিন্তু সত্য চাপা থাকেনি।”

“২০১৮ সালের অক্টোবরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় হয়। গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার দায়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। একইসাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে পলাতক তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ১১ আসামিকে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে,” বলেন তিনি।

সব আইনি বিধি-বিধান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব এ রায় কার্যকর করা হবে এবং এর মধ্য দিয়ে দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চির অবসান হবে এবং বাংলাদেশ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ আবাসভূমিতে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Design & Develop BY Our BD It
© Copyright 2019 All rights reserved BBC Morning
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102