আজ ৩০শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু মারা গেছেন

ঢাকাঃ

প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু।
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট থাকায় সোমবার দুপুরে বাবুকে প্রথমে ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে রাত দেড়টায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

৫১ বছর বয়সী শফিউল বারী বাবু স্ত্রী, ছোট এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বাবু জাতীয়বাদী ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবুকে দাফন করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবক দল তার সংগঠনের সভাপতির মৃত্যুতে সারাদেশের জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলা ও পৌরসভায় মঙ্গলবার খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার সকালে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শফিউল বারী বাবুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতৃবৃন্দ তার কফিনের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এর আগে তার কফিন বিএনপির পতাকা দিয়ে ঢেকে দেন বিএনপি মহাসচিব।
এর আগে কার্যালয়ের সামনের সড়কে শফিউল বারী বাবুর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির মো. শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, আমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম, জামায়াতের মহানগর নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইয়াসীন আলী, ঢাকাস্থ রামগতি ইয়ুথ ফোরামের নজরুল ইসলাম বাবলুসহ সহাস্রাধিক নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা শাহ নেছারুল হক।
জানাজার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আজকে শফিউল বারী বাবুর জানাজায় উপস্থিত হতে হবে এটা আমরা কল্পনাও করিনি। বাবু শুধু স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন না, তিনি বিএনপির একটা প্রাণ ছিলেন।

“অসংখ্য নেতা-কর্মী সারাদেশে তার হাতে তৈরি হয়েছে এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মধ্যে এই ধরনের ত্যাগী, মেধাবী, বুদ্ধিমান, লেখপড়া জানা নিবেদিত প্রাণ নেতা খুব কম আছে। বাবুকে হারিয়ে আমরা আমাদের একটা অমূল্য সম্পদকে হারালাম। বিএনপির এই সৈনিক, শহীদ জিয়াউর রহমানের এই সৈনিক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই সৈনিক, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই সৈনিক কখনো পেছনে ঘুরে তাকায়নি। আন্দোলনে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তার ভুমিকার কোনো তুলনা হয় না। আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, আল্লাহ তালা যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।”

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল ও প্রয়াত বাবুর বড় ভাই সাহেদুল বারীকেও শফিউল বারীর অবদানের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।

শফিউল বারী বাবুর মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেন।

সূত্র, বিডিনিউজ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর