আজ ৩০শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আত্মসমর্পণের সুযোগে পাঁচ দিনে সাড়ে ২৩ হাজার জামিন

ঢাকা ডেস্কঃ
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে তিন মাস পর আত্মসমর্পণের সুযোগ পেয়ে পাঁচ দিনে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
গত রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের মুখ্য বিচারিক হাকিম এবং মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালত থেকে তাদের জামিন দেওয়া হয়।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মার্চের শেষ দিকে সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর আদালতের নিয়মিত কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল আদালত চালু হলেও সেখানে শুধু গ্রেপ্তার আসামিদের জামিন শুনানির সুযোগ রাখা হয়।

ফলে ফৌজদারি মামলার অনেক আসামি সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারছিলেন না। প্রায় তিন মাস এভাবে চলার পর গত ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতির এক নির্দেশে হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়র সুযোগ তৈরি হয়।

সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ফৌজদারি মামলার আসামিরা মুখ্য বিচারিক হাকিম এবং মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক-সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

ওই বিজ্ঞপ্তি জারির পর দিন থেকে মুখ্য বিচারিক হাকিম এবং মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য ভিড় লেগে যায়।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, গত ৪ থেকে ৯ জকুলাই পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে ৬ হাজার ৫৮৮টি ফৌজদারি মামলায় আত্মসমর্পণ করে ২৩ হাজার ৩৯৬ জন জামিন নিয়েছেন।

এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে জামিন হয়েছে ৪ হাজার ৩৫২ জনের, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ হাজার ৩২৬ জনের জামিন হয়েছে।
এছাড়া রংপুর বিভাগে ৪ হাজার ২৪৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৪৬১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ১০৭ জন, খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ৬১ জন, সিলেট বিভাগে ১ হাজার ৮৬৩ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ হাজার ৯৮০ জন আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।

গত ১১ মে ভার্চুয়াল আদালত চালু হওয়ার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪০ কার্যদিবসে অধস্তন আদালতে লক্ষাধিক আসামির জামিন হয়েছে বলে জানান সাইফুর রহমান।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৩৭টি জামিন আবেদনের নিষ্পত্তি করে ৫৪ হাজার ৬৭৭ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। এদের মধ্যে নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু আদালত থেকে জামিন পাওয়া ৬৫১ শিশুও রয়েছে।

আত্মসমর্পণ করা যাবে সব অধস্তন আদালতে

স্বাস্থ্যবিধি, শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে ফৌজদারি মামলার আসামিরা অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

শনিবার এ সংক্রান্ত একটি ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে জারি করা হয়।

সেখানে বলা হয়, এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা অধস্তন আদালতের বিচারক বা হাকিমরাই ঠিক করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর