বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
টপ নিউজ
পেকুয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পুত্রের ইফতার সামগ্রী বিতরণ স্ক্যাভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দিল ৩ টি দোকানঃভূক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন পেকুয়ায় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম শাল্লা নোয়াগাঁওয়ে হামলার প্রধান আসামী শহীদুল ইসলাম স্বাধীনের মুক্তি চান বৃদ্ধা মা খোদেজা বিবি প্রবীন সাংবাদিক চৌধুরী হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যুতে হারুন মিয়া’র শোক প্রকাশ  “চকরিয়া প্রবাসী ইউনিয়ন” আমিরাতস্থ ফুজিরায় আলফাজ সভাপতি ও মুফিজ কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা চকরিয়া প্রবাসী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্বর্ধিত  চকরিয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের মানববন্ধন “চকরিয়া প্রবাসী ইউনিয়ন” আবুধাবীতে এখলাছকে সভাপতি ও ছাদেক কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা বিদ্যালয়ের সুনামক্ষুন্ন করতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ

কলেজ শিক্ষককের লাশ বহনে বাধাঁ মগনামা ঘাটের লঞ্চ চালকদের

Reporter Name
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ৪৭৯ দেখুন

আবদুল করিম বিটু

মৃত্যুর আগে এই শিক্ষক কি কল্পনাও করতে পেরেছিলেন সাগরের ওপারে যে গ্রামের আলো-বাতাসে বড় হওয়া গ্রামের সেই মাটিতে ঠাঁই পেতে অনেক লড়াই করতে হবে তার নিথর দেহকে!

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছে হেরে যান চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ সিটি কর্পোরেশন ডিগ্রি কলেজের ফিনান্স,ব্যাংকিং ও বীমা বিষয়ক প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুন। ২৬ জুন (শুক্রবার)সকালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।এই কলেজশিক্ষকের মৃত্যুর পর লাশ নেওয়ার জন্য খবর পাঠানো হয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আল মানাহিল ফাউন্ডেশনের কাছে। দ্রুতই স্বেচ্ছাসেবীরা এসে গোসল ও কাফন পরানোর পর্ব শেষ করেন,
কলেজশিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার দক্ষিণ মলমচর গ্রামে দাফন করা হবে।আল মানাহিলের দল তড়িঘড়ি তৈরি হয়ে লাশ নিয়ে ছুটে চললো কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে।পেকুয়া পার হয়ে মগনামা ফেরিঘাট পাড়ি দিতে পেকুয়ার মগনামা ফেরিঘাটে পৌঁছে, সেখানে নামতেই শুরু হল অন্যযুদ্ধ! সঙ্গে লাশ দেখে কোনো স্টিমার বা লঞ্চ তাদের নিতে রাজি নয়। দুর দুর করে তাড়িয়ে দিলেন লঞ্চচালকরা। বোঝানোর চেষ্টা করলেন সবাই মিলে। কিন্তু না, কোনোভাবেই কেউ রাজি নয়। সবারই এক কথা— করোনায় আক্রান্ত লাশ! এলাকাবাসীর নিষেধ আছে।
মগনামা ফেরিঘাটে অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকে আল মানাহিলের দল— যদি কোনোভাবে কোনো স্টিমার বা লঞ্চকে রাজি করানো যায়। ইতিমধ্যে মৃত ওই শিক্ষকের স্বজনদের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, স্থানীয় কিছু লোক সংঘবদ্ধ হয়ে প্রশাসনের কাছে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, লাশ যাতে কুতুবদিয়ায় না আসে।
সেই চট্টগ্রাম থেকে এতো দূর এসে মৃতদেহটি নিয়ে কিভাবে আবার ফিরে যায় আল মানাহিলের দল! তারা চেষ্টা চালাতেই থাকে শেষে অনেক চেষ্টা-তদবির ও বোঝানোর পর কুতুবদিয়ার ইউএনও জিয়াউল হক মীর কিছু শর্ত দিয়ে তাদের লঞ্চ কুতুবদিয়া যাওয়ার অনুমতি দেন। তবে আল মানাহিলের স্বেচ্ছাসেবীদের বিভিন্নভাবে আগেই সতর্ক করে দেওয়া হয়, ওই শিক্ষকের কোনো স্বজন লাশের সঙ্গে আসতে পারবে না।
কলেজ শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনের বাবা-মা আগে থেকেই ছিলেন কুতুবদিয়ার গ্রামের বাড়িতে। তবে আল মানাহিলের স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকেই এসেছিলেন ওই শিক্ষকের দুই ভাই।
কোনো স্বজনকে যেন সঙ্গে নেওয়া না হয়— এমন সাবধানবাণীর কথা শুনতেই দুই ভাই হু হু করে কেঁদে ফেললেন। এমন মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে আল মানাহিলের দলও আর ভাইদের ফেলে লঞ্চে উঠতে পারলেন না। তাৎক্ষণিক বুদ্ধি খাটিয়ে দুজনকেই পিপিই পরিয়ে পুরো মুখ ঢেকে দিয়ে লঞ্চে তুললেন। তবে সতর্কও করে দিলেন, কোনোভাবেই তারা যেন না কাঁদে। কারণ কাঁদলেই এলাকার মানুষ বুঝে ফেলবে এরা তাদের স্বজন।
আপন ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে চোখের জল সংবরণ করা কঠিন— এটা জেনেও দুই ভাই প্রতিজ্ঞা করলেন, একটুও কাঁদবেন না তারা। সারা পথ সেভাবেই ছিলেন। প্রশাসনের সহায়তায় জানাজার নামাজ শেষে যখন মোনাজাতের সময় এলো, পিপিইতে মুখ লুকিয়ে থাকা এক ভাই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে সহোদর ভাইয়ের জন্য আর্তনাদে ফেটে পড়লেন তিনি।
এমন কান্নায় হঠাৎ চমকে গেলেন আশেপাশে উঁকিঝুকি মারা অনেকেই। কারোরই বুঝতে অসুবিধা হল না, পিপিইর ভেতরে আসলে মৃত শিক্ষকেরই সহোদর। এমন দৃশ্যে হতবাক প্রতিবেশীদের অনেকেরই চোখ ভিজে উঠলো। মগনামা ঘাট থেকে লঞ্চে উঠার আগে যারা বারবার সাবধানবাণী পাঠাচ্ছিল— এমন কান্না তাদেরও ছুঁয়ে গেল।
কোনো বাধা না মেনে আশেপাশের অনেকে মুহূর্তেই ছুটে এলেন জানাজার মাঠে। অনেকে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ গ্রামের ছেলেটার লাশ দাফনেও হাত লাগালো।
সন্ধ্যায় অশ্রুসজল চোখে না বলা কৃতজ্ঞতায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে কুতুবদিয়া ছাড়লো আল মানাহিলের দল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Design & Develop BY Coder Boss
© Copyright 2019 All rights reserved BBC Morning
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102