আজ ২৮শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বাঁশখালীতে দোকানের কর্মচারীকে গাছে বেঁধে ৫ ঘন্টা মারধর, মৃত্যু শয্যায় সেই আব্বাস!

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নে চায়ের দোকানের কর্মচারীকে তুলে নিয়ে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে টানা পাঁচ ঘন্টা বেধড়ক পেটানোর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১ জুন) বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মসুরজ্জা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যু শয্যায় কাতরাচ্ছেন চায়ের দোকানী শ্রমিক আব্বাস উদ্দিন। আব্বাস বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বল এলাকার পেশকার পাড়ার আবদুর রশীদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীকে যখন মারছিলো তখন খবর পেয়ে সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া সন্তান নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন আব্বাসের স্ত্রী। ওই সময় নবজাতকসহ স্ত্রীকেও ধাক্কা দিয়ে আঘাত করেছে পাষণ্ডরা। পরে এ ঘটনার বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতির খবর পেয়ে ভুক্তভোগী আব্বাসের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিতে এসেছিলো রশীদ আহমদসহ সন্ত্রাসীরা। অসহায় এই পরিবারটি প্রভাবশালীর ভয়ে এই মূহুর্তে থানায় যাওয়ার জন্য সাহস পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেঁদে কেঁদে আহত আব্বাস উদ্দিনের বড়ভাই আবদুল মালেক জানান, আমার ছোট ভাই আব্বাস শীলকূপ ইউনিয়নের বড়ুয়া পাড়ার হারাধন রুদ্রের চায়ের দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। গত সোমবার সকালে হঠাৎ মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। আমার ভাইকে ওইদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পিটিয়েছে মোবাইল স্বীকারোক্তি নেয়ার জন্য। দুর্ধর্ষ ডাকাতকেও কেউ এভাবে পেটাবে না। গাছে বেঁধে পিটিয়েছে। মারতে মারতে যখন ক্লান্ত হয়েছিলো তখন আব্বাস পানি চাইলেও দেয়নি সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি। এই মূহুর্তে আব্বাসের অবস্থা খুব খারাপ। তার অন্তঃকোষ ও পেট ফুঁলে গেছে। প্রস্রাবও করতে পারছে না। তাছাড়া অর্থাভাবে আমরা তার উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারছি না।

হামলাকারীরা কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন যারা তাকে গাছে বেঁধে মেরেছে সবাইকে চিনে আব্বাস। তারা হলেন শীলকূপ সিকদার বাড়ির মোহাম্মদ আজম, রশীদ আহমদ, রুবেল, এরশাদ ও জমির।

এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, আব্বাসকে হামলার বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। পরিবারের কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর