মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন
টপ নিউজ
পেকুয়ায় অপহৃত স্কুল ছাত্রীর খোঁজ মিলছেনা চকরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ প্রভাষকের মৃত্যু পেকুয়ায় স্বপ্নের নতুন ঘর পেল ৬০টি ভূমিহীন পরিবার পেকুয়ায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম পেকুয়ায় খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত চকরিয়া ব্লাড ডোনার’স সোসাইটির বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন সুনামগঞ্জে ডাঃ এনামুল হকের ভূল এন্ট্রিবায়োটিক প্রয়োগের ফলে এক নবজাতক শিশুর মৃত্যু পেকুয়ায় সভাপতিকে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে মৎস্যজীবিলীগের সভা চকরিয়ায় বনবিভাগের উচ্ছেদ অভিযান ১ একর জায়গা দখলমুক্ত কাকারা মিনিবাজার ভিত্তহীন সমবায় সমিতি লি:এর কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম লুটপাট দূর্নীতির অভিযোগ

কি জিনিস ব্যবহার করলে শরীর থেকে আর অতিরিক্ত ঘাম বের হবে না

Reporter Name
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০
  • ৪৪১ দেখুন

অনলাইন ডেস্ক
ঘাম বন্ধ করার কোনো উপায় নেই।জেনে রাখবেন বাইরের বায়ুমন্ডলের চাপ দেহের
ভিতরের বায়ুমন্ডলের চাপ থেকে বেশি হলেই ঘাম বের হয়। এর মাধ্যমে আপনার শরীরের
সকল জীবাণু বের হয়।এটা স্বাভাবিক। তবে যদি অতিরিক্তই ঘাম বের হয় তবে
হোমিওঔষুধ খেতে পারেন। অতিরিক্ত ঘামছেন? জেনে নিন কি করবেন-
গরম পড়েছে বেশ। শরীরটা ঘেমেনেয়ে একাকার। বিরক্ত লাগছে, আবার খানিকটা
দুর্বলও। ঘাম কিন্তু স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। ঘামের মাধ্যমে শরীর বাড়তি তাপ
হারিয়ে শীতল হয়। তাই ঘাম উপকারী। তবে কারও কারও স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা
সামান্য পরিশ্রমেও অতিরিক্ত ঘাম হতে দেখা যায়। মানসিক উত্তেজনা, রাগ, ভয়,
উদ্বেগের কারণে ঘাম বেড়ে যেতে পারে।
অতি উদ্বেগের রোগীদের হাত-পায়ের তালু বেশি ঘামে।
রাতে ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে ঘেমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রতি রাতে ঘুমের মধ্যে ঘেমে বিছানা ভিজে যাওয়া, জ্বর জ্বর ভাব, গা ম্যাজম্যাজ থাকলে সাবধান হওয়া উচিত। যক্ষ্মা বা লসিকাগ্রন্থির ক্যানসারে রাতে ঘাম হয়। ডায়াবেটিস রোগীরা হঠাৎ বিন্দু বিন্দু শীতল ঘামে ঘেমে উঠলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে গেছে কি না সতর্ক হোন। এ ক্ষেত্রে তার
সঙ্গে বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, হাত কাঁপুনি থাকতে পারে। এমনটি হলে দ্রুত

সহজ শর্করা যেমন চিনির শরবত খেয়ে নিলে সমস্যা মিটে যাবে। দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিসের
রোগীদের স্নায়ুজনিত সমস্যা হলে খাবার সময় বা পরে মাথা, কপাল, ঘাড় বেশি ঘামতে পারে।
ঘামের সঙ্গে মাঝে মাঝে বুকব্যথা, বুকে চাপ ধরার মতো সমস্যা হলে অবশ্যই হৃদ্‌রোগ
আছে কি না নিশ্চিত হওয়া চাই। আবার থাইরয়েডগ্রন্থির সমস্যায় বেশি ঘাম হয়, তবে
এর সঙ্গে ওজন হ্রাস, ডায়রিয়া, বুক ধড়ফড় ইত্যাদি আরও উপসর্গ থাকে। নারীদের
মেনোপজ-পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ঘামতে দেখা যায়। একে হটফ্লাশ বলা হয়। হটফ্লাশের
সুচিকিৎসা আছে, তাই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ভালো। অনেক সময় কিছু
ওষুধের প্রভাবেও ঘাম হয় বেশি। কারও কারও হতে পারে কফি-চা পান করার পরও।
অতিরিক্ত গরমে বা রোদে বেশি ঘেমে গেলে মাথা ঘোরে, শরীর দুর্বল লাগে, ঝিমঝিম
করে। পানি ও লবণ বেরিয়ে যায় বলে এমন লাগে। তাই বেশি ঘামলে যথেষ্ট পানি,
স্যালাইন পানি, ডাবের পানি পান করুন।

উদ্বেগজনিত সমস্যা থাকলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।
পরীক্ষা বা কোনো দুশ্চিন্তায় বেশি ঘামা, হাত-পায়ের তালু ঘামা উদ্বেগের লক্ষণ। সঙ্গে বুক
ধড়ফড়ানি থাকতে পারে। মনে রাখবেন থাইরয়েড সমস্যায় প্রায় একই ধরনের
উপসর্গ হয়। তাই থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করে নিতে পারেন। ওজন কমান। স্থূল ও
আনফিট ব্যক্তিরা সহজেই অল্প পরিশ্রমে ঘেমে ওঠেন। ফিট থাকার জন্য নিয়মিত
ব্যায়াম করুন। যারা বেশি ঘামেন তাঁরা চা-কফি কম পান করবেন। অ্যালকোহলও।
কোনো ওষুধ থেকে হচ্ছে কি না খেয়াল করুন। ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে—এটা অনেকেই
খেয়াল করেন না। জ্বর আছে কি না তাই মেপে দেখুন। অতি গরমে হালকা সুতির
কাপড় পরুন। বেশি মসলা চর্বিযুক্ত খাবার খাবেন না। শিশুরা একটু বেশিই ঘামে ।
তাদের বেশি জবরজং কাপড় পরাবেন না। ঘামে ভেজা কাপড় দ্রুত পাল্টে দেবেন।
অতিরিক্ত ঘামের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চান ?
বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ অতিরিক্ত ঘামের যন্ত্রণায় ভুগে থাকেন। হাত, পা, মুখ, বগল
ঘামাকে ডাক্তারি ভাষায় হাইপারহিডরোসিস বা মাত্রাতিরিক্ত ঘাম বলা হয়। এটি এমন এক
রোগ যা অনিয়ন্ত্রিত স্নায়ুপদ্ধতির জন্য হয়ে থাকে। এর ফলে আমরা প্রায়ই অনুষ্ঠান,
পরীক্ষাসহ কোনও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থায় খুব সমস্যায় পড়ে থাকি। প্রতিদিনের কাজকর্ম
যেমন গাড়ি চালাতে গিয়ে, টাচ-স্ক্রিন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার সময় বা অন্যান্য
কাজ করতে গিয়ে বেশ বিপত্তি ঘটে। খুব বেশি বডি-স্প্রে দিয়েও কোন লাভ হয়না, বরং
তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কোন রকম কেমিকেল ব্যবহার না করেও প্রাকৃতিক উপায়ে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় যেভাবে-

০১. ভিটামিন বি-১২র অভাবে এই রোগ হয়। তাই ভিটামিন বি-১২ যেসব খাদ্যে বেশি
পরিমাণে পাওয়া যায় সেসব খাদ্য গ্রহণ করুন। যেমন কলা, ডিম, দুধ, গাজর,
টমেটো, সবুজ শাক, মাছ, কাঠ বাদাম ইত্যাদি।

০২. ভিটামিন বি পরিবার যেমন, বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫যুক্ত খাদ্য। প্রয়োজনে ডাক্তারের
পরামর্শে ভিটামিন বি ট্যাবলেট গ্রহণ করুন।

০৩. বেশি করে পাকা ফলমূল ও শাকসবজি খাবেন। পাকা পেঁপে, তরমুজ, আম,
কামরাঙ্গা, ফুলকপি, গাজর, বরবটি খুব উপকারী।

০৪. শারীরিক দুর্বলতা থেকে এটি হয়ে থাকে। তাই পুষ্টিকর খাবার, শাকসবজি, ফলমূল বেশি পরিমাণে খান।

০৫.
আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন – এসপারাগাস, ব্রকোলি, টারকি, গরুর মাংস,
যকৃত, সাদা পেঁয়াজ, খাবার লবণ প্রভৃতি থেকে এটি হয়ে থাকে। তাই এগুলো খাওয়া
থেকে বিরত থাকুন।

০৬. চায়ের মধ্যকার টনিক এসিড প্রাকৃতিক ঘাম বিরোধী ওষুধ হিসেবে কাজ করে। তাই
দেড় লিটার পানির মধ্যে পাঁচটি চায়ের ব্যাগ মিশিয়ে সেটার মধ্যে ১০-১৫ মিনিট হাত-পা
ভিজিয়ে রাখুন। তাছাড়া সবুজ চা পান করুন। এতেও উপকার পাবেন।

০৭. হাতে-পায়ে কোনও ধরনের পাউডার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এটি
ঘাম দূর করার পরিবর্তে আরো বাড়িয়ে দেবে।

০৮. পান, ক্যাফেইনযুক্ত কফি, ধূমপান প্রভৃতি থেকে বিরত থাকুন কারণ এগুলো
অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন করে।

০৯. বেশি বেশি পানি পান করুন। পানি দিয়ে মুখ, হাত, পা বারবার ধুয়ে ফেলুন।

১০. শশা লবণ না মেখে খাবেন এতে আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকবে এবং
ঘাম কমে যাবে।
মেডিসিন ব্যবহার করে ঘাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের
পরামর্শ ছাড়া কোন প্রকার মেডিসিন ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
ঘামের বিরক্তিকর অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে চিকিৎসাবিজ্ঞান মেডিসিনিকল এবং
সারজিকল দু উপায়েই চেষ্টা করে কিছু ঘামবিরোধী ক্রিম, ইনজেকশন, ইলেকট্রিক
থেরাপি ও ড্রাইসল বের করেছে। সারজিকল চিকিৎসা হিসেবে অতিরিক্ত ঘাম
উৎপাদনকারী স্নায়ুর বিশেষ অংশ কেটে ফেলে দেয়া হয়। স্থায়ীভাবে ঘাম দূরীকারক
এই পদ্ধতিটি তেমন সুবিধার নয়। কারণ অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত এবং
অপারেশন-পরবর্তী ওষুধে যাদের এলার্জির সমস্যা আছে তাদের জীবনের ঝুঁকি থেকে
যায়। তাই অতিরিক্ত ঘাম থেকে রক্ষা পেতে সাময়িক উপশমকারী ড্রাইসল বা
অ্যালুমিনিয়াম কোরাইড হেক্সাড্রেট এলকোহোলিক সলুশনজাতীয় (ড্রাইসল)
ওষুধ অনেক কার্যকর।

আসুন এবার এসব ওষুধের কিছু ব্যবহার বিধি জেনে নিইঃ

০১. এই ওষুধ আপনি ঘুমাতে যাবার আগে শুষ্ক বগলে মাখুন। সকালে উঠে স্বাভাবিক
পানি দিয়ে এটি ধুয়ে ফেলুন। দিনে গন্ধনাশক পদার্থ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
এলুমিনিয়াম কোরাইডে আপনার বগলের ত্বক চুলকাতে পারে। সেজন্য আপনি
আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ব্যবহার করুন। যতদিন ঘাম থেকে মুক্তি না
পান ততদিন এটি ব্যবহার করে যান। ঘাম থেকে মুক্তি পাবার পর আপনি দিনে
গন্ধনাশক পদার্থ বা ডিওডারান্ট ব্যবহার করতে পারবেন।

০২. ঘুমাতে যাবার সময় হাতের তালুর পাতলা চামড়ায় এটি মাখুন। শুকানোর পর
প্লাস্টিকের গ্লাভস পরে নিন । সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। ১০-১৪ দিন ব্যবহারে আপনি
এটির ফল বুঝতে পারবেন।

০৩. পায়ের তালুতে এটি মাখুন এবং শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পায়ের তালুর
আকারের মতো প্লাস্টিকের ব্যাগ পড়ে ঘুমান। সকালে উঠে স্বাভাবিক পানি দিয়ে
পায়ের পাতা ধুয়ে ফেলুন। এক থেকে দু সপ্তাহের মধ্যে আপনি সুফল পাবেন।

টিপসঃ
ঘামের কারণে অনেকেই ব্যায়াম করতে ভয় পান। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর
ঝরঝরে থাকে । সামান্য হাঁটাচলা করে বা বাসার কাজ করার মধ্য দিয়েও ব্যায়াম করা
যায়। তাই বসে না থেকে ছোট ছোট কাজ নিজেই করে ফেলুন। প্রচুর পানি খান। সম্ভব
হলে পাতলা সুতির জামা পরার চেষ্টা করুন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Design & Develop BY Coder Boss
© Copyright 2019 All rights reserved BBC Morning
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102