মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫০ অপরাহ্ন

পুলিশ পরিচয়ে বাড়ীতে ঢুকে মারধর করে ১৪ ঘর লুটঃচকরিয়ায় সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ

Reporter Name
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০
  • ২৬৭ দেখুন

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়ার বরইতলী গোবিন্দপুর দক্ষিণ পাড়ায় পুরুষ শুন্য
১৪ বসত ঘরে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্তরা। পুর্বশত্রুতার জের ধরে পুলিশী আতংকের মাঝেই পুলিশ পরিচয়ে ৪০/৫০ জনের একদল সন্ত্রাসী নিরপরাধ নারী ও শিশুদের মারধর-শ্লীলতাহানী করে, ১৪ টি বাড়ীর আসবাবপত্র ভাংচুর এবং নগত টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল লুট করেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী একদল নারী ও শিশু-কিশোর। সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘটনায় বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন তারা।

হামলা ও লুটপাটের শিকার
গোবিন্দপুরের একদল নারী মঙ্গলবার দুপুরে নিকটস্থ গ্রামের ষ্টেশনের মাঠে এক সাংবাদিক সম্মেলনেরর আয়োজন করেন। ভুক্তভোগী নারীরা এসময় জানান,
চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর তীর সংলগ্ন কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর চরে নদী সিকস্তি জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে কৈয়ারবিল ও বরইতলীর দুইদল সন্ত্রাসীর মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ হয়। বিগত ১৪ মে’ ভোর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় আগুন সন্ত্রাসে ২৭ বসতঘর ও এক নারী পুড়ে ভস্মিভুত হয়। এ ঘটনায় কৈয়ারবিলের আব্দুল্লাহর পুত্র জমির উদ্দীন বাদী হয়ে ৮৩ জনের নাম উল্লেখ সহ আরো দেড়শত জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় বরইতলী ছাড়াও বদরখালী,ও বান্দরবানের লোকজনকে আসামী করা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলন আহ্বানকারী নারীদের অভিযোগ, মামলায় এমন কিছু লোককে আসামী করা হয়েছে যাদের অনেকেই দিনমজুর। এমনকি বিরোধীয় জমিতে তাদের দাবী দাওয়াও নাই। তারপরও তাদের স্বামী, ভাই পুত্রদের আসামী করে ঘর ছাড়া করা হয়েছে। মামলা ও লকডাউনের কারনে গোবিন্দপুর গ্রাম জুড়ে যখন পুরুষ শুন্য অবস্থা বিরাজ করছে

এমতাবস্থায় গত সোমবার ১ জুন দিবাগত রাত ১ টায় চকরিয়া থানার এসআই অপু বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ কয়েকটি বসত ঘরে তল্লাসী চালায়। অভিযোগকারীরা বলেন, পুলিশ যাবার পরপরই পুর্বপরিকল্পিতভাবে মামলার বাদী জমির উদ্দীন, মোস্তফা ও হেলালের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুরুষ শুন্য গোবিন্দপুরে হানা দেয়। একে একে ১৪ টি বসত ঘরে হামলা করে দা দিয়ে কুপিয়ে ঘেরা বেড়া, ঘরের দরজা, আসবাব পত্র ভাংচুর করে। বাধা দেয়ার চেষ্টা করায় বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও শিশুদের মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্ণলঙ্কার, মোবাইল, ধান, মরিচ সহ এমন কি ডেক্সী পাতিল ও লুট করে নিয়ে যায়। তাদের মারধরে আহত হয় সত্তরোর্ধ রশিদ আহমদ (৭০) সত্তরোর্ধ মরিয়ম খাতুন (৬৭) শিশু মায়মুনা জান্নাত (৬) সহ ৫/৬ জন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অংশগ্রহনকারীরা হলেন, গোবিন্দপুরের মৃত রিদুয়ানের স্ত্রী কমরুন্নেছা (৩৩), মৃত মকছুদুর রহমানের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (৬৭), আহামদ মিয়ার স্ত্রী হাজেরা খাতুন, রশিদ আহামদ( ৭৫) মৃত সুলতান আহামদ, জামাল হোসেন (৬০), নুর আয়েশা স্বামী মৃত সুলতান আহামদ, ছলেমা খাতুন (৬০), মায়মুনা জন্নাত (৬) আইমন (২৭), খালেদা বেগম (৩০), হিরা আক্তার (১৩), রোকেয়া বেগম (১৬), আবু ছৈয়দ (৬০) পিতা- মৃত মোস্তাক আহামদ, নুর জাহান (৬০) প্রমুখ।
নারী ও শিশু-কিশোর সাংবাদিক সম্মেলনকারীরা এসময় ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Design & Develop BY Our BD It
© Copyright 2019 All rights reserved BBC Morning
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102