শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
টপ নিউজ
কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে রাজশাহীতে বদলি,হাসানুজ্জামান নতুন এসপি সিনিয়র সাংবাদিক জহিরুল ইসলামের ফেসবুক টাইম লাইন থেকে “ইয়াছমিন সুলতানার করোনা জয়” পেকুয়ার মগনামায় ৭৪২জন জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ পেকুয়ায় নদী থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার পেকুয়ায় সোনাইছড়িতে প্রতিষ্টিত হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ স্কুল পুরান বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়  অর্ধ শতাব্দির ও বেশি সময়ের ঐতিহ্য বহন করে করোনাভাইরাসে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর মৃত্যু কক্সবাজারের মহেশখালীতে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ সুনামগঞ্জের শাল্লায় ইউপি সদস্য আ: নূর যখন চোর চক্রের প্রধান, থানা পুলিশের ভয়ে মেম্বার ও চোর পলাতক নিউজ পোর্টাল”দৈনিক নূরের দর্পণে”র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

একে একে সবই খুলছে, ঝুঁকিও বাড়ছে

Reporter Name
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০
  • ২১৯ দেখুন

করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে দুই মাসের সাধারণ ছুটির শেষে অবরুদ্ধ অবস্থা কাটিয়ে অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি গণপরিবহনও চালু হচ্ছে।

দেশে একদিনে সর্বাধিক কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের দিন বৃহস্পতিবারই ঘোষণা আসে, ৩১ মে থেকে অফিস খুলবে, বাস-লঞ্চ-ট্রেন-বিমান চলবে, খুলবে পুঁজিবাজার, ব্যাংকে লেনদেন হবে আগের মতোই। দোকান-পাট তো ঈদের আগেই খুলেছিল।

ভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এভাবে সব খোলার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। আপত্তি এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকেও।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অর্থনীতি সচলের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এসব খোলা হবে। ১৫ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে ততদিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অবস্থায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। কেননা দেশে ‘লকডাউন’ও ঠিকভাবে করা যায়নি, যে কারণে ভাইরাস এখন ৬৪ জেলায়ই ছড়িয়ে পড়েছে।

বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারণ করা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগী বাংলাদেশে ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ। রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়াতে লেগেছিল প্রায় এক মাস।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এক মাসের মধ্যে ৪ মে রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, ততদিনে দোকান-পাট, কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত এসেছিল।

এরপর রোগীর সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এর মধ্যেই ঈদযাত্রায় ছাড় দেওয়া হলে তার প্রতিক্রিয়ায় এই মহামারীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গঠিত ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির’ সদস্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, “তাহলে তো ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে!”

ঈদের তিন পর ২৮ মে বৃহস্পতিবার এক দিনে রেকর্ড ২ হাজার ২৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে নেয়। এর মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে ৫৫৯ জনের।
অফিস খোলার সিদ্ধান্তটি বুধবারই জানিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। একদিন বাদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তার আদেশ হয়।

তাতে বলা হয়, ৩১ মার্চ থেকে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত তরার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

গণপরিবহন চলার বিষয়ে আদেশে বলা হয়, সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহণ, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারে। তবে সব অবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

এরপর পুঁজিবাজার খোলার ঘোষণাও আসে; তারপরই জানা যায়, আগামী সপ্তাহ থেকে ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক সময়ের মতো খোলা থাকবে।

বাংলাদেশের আগে বিভিন্ন দেশ লকডাউন শিথিল করে জনজীবনে স্বাভাবিক করার পথে হাঁটতে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা অনেকটাই উপেক্ষা করেই।

তবে অন্যান্য দেশ তখনই লকডাউন শিথিল করেছে, যখন তাদের দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে যখন, তখন আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি সব কিছু খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়া ঠেকাতে চাইছে সরকার।

সেজন্য চলাফেরায় বিধিনিষেধ আগের মতোই থাকছে। আগের মতোই রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা সবাইকে ঘরে থাকতে হবে। এই সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না।

হাট-বাজার এবং দোকানপাটগুলোতে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বেচাবিক্রি চলবে।

সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত বন্ধই থাকবে।

বিরোধিতায় কী বক্তব্য

সাধারণ ছুটি না বাড়িয়ে সব খোলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা এসেছে বিএনপি ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের কাছ থেকে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একে আত্মঘাতী ‘মন্তব্য’ করে বলেন, “ছুটির নামে তথাকথিত লকডাউন তুলে নেওয়ার পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার কি প্রমাণ করতে চায়- করোনার থেকে তারা শক্তিশালী?

“এই ছুটি প্রত্যাহারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষকে আক্রান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হল। এই ছুটি প্রত্যাহারের জন্য করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সকল দায় সরকারকেই নিতে হবে।”

বাম গণতান্ত্রিক জোট এক বিবৃতিতে বলছে, এটা সরকারের ‘চরম দায়িত্বহীন’ সিদ্ধান্ত।

“যেখানে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন জুন এর ১৫ তারিখের পর দেশে করোনা সংক্রমণ চূড়ান্ত উচ্চে পৌঁছানো এবং তার পর থেকে সংক্রমণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে তখন ৩১ মে থেকে সব খুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে।”

বাম জোট বলছে, “যেখানে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভঙ্গুর, সরকারের অস্থিরতা ও সমন্বয়হীনতা প্রকট সেখানে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ লাইনে চলার সরকারের সিদ্ধান্ত গরিবের ঘোড়া রোগের শামিল। কারণ যে সব দেশ হার্ড ইমিউনিটির কথা বলছে, তারা গণহারে পরীক্ষা করে আক্রান্তদের আইসোলেশনে নিচ্ছে।

“আমাদের তো শুরু থেকেই পরীক্ষা সীমিত আকারে করা হচ্ছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য গোপন করা, হাসপাতালসমূহের অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে দুর্নীতি বর্তমান সরকারের ব্যর্থতাকে উন্মোচিত করেছে।”
পক্ষে কী যুক্তি

জনজীবন সচল করার ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরানোর যুক্তিই দেখিয়ে আসছে সরকার

সূত্র//বিডিনিউজ২৪

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Design & Develop BY Our BD It
© Copyright 2019 All rights reserved BBC Morning
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102